1. pressmedia24@yahoo.com : pressmedia24 :
  2. sujitpauldhaka@gmail.com : sujitdhaka :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

নবাবগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

শাহিনুর রহমান
  • আপডে সময় : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৭০ বার দেখা হয়েছে:

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় শ্বশুর বাড়িতে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।

নিহত গৃহবধূর মা ফিরোজা বেগম মঙ্গলবার  সাংবাদিকদের কাছে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বক্তারনগর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের স্ত্রী কাকলী আক্তারকে (২০) অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
রবিবার সকালে শ্বশুর বাড়িতে লাশ নিয়ে যাওয়া হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
কাকলীর মা ফিরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর আগে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বক্তারনগর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের সঙ্গে তার মেয়ে কাকলীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার  ও আসবাবপত্রসহ যৌতুক হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও জামাই আমার মেয়েকে টাকার জন্য প্রায়ই চাপ দিতো। বাধ্য হয়ে মেয়ের সুখের জন্য কিছুদিন আগে আরও ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবুও জামাই ও তার পরিবারের লোকজনক আমার মেয়ের উপর নির্যাতন থামায়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় মেয়ে আমাকে ফোন করে জানায় ওকে একা রেখে স্বামী গান শুনতে গেছে। পরে রাত ১টার দিকে জামাই ফোন দিয়ে আমাকে বলে সকালে এসে আমি যেন মেয়েকে নিয়ে যাই। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে সে কোন উত্তর দেয়নি। পরে শেষ রাত ৩টা ২১ মিনিটে জামাই বাড়ি থেকে আমাকে জানায় কাকলীর অবস্থা ভাল না, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের সাথে আর যোগাযোগ করতে পারি নাই। সকালে মেয়ের বাসায় গিয়ে দেখি ঘরের বারান্দায় মেয়ের লাশ রেখে ওরা সবাই পালিয়ে গেছে।
আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। ওরা আমার মেয়েকে খুন করেছে। ওর ঘাড় ভাঙা ছিল গলা ফুলা ছিলো। ওর মুখে কোন বিষাক্ত জিনিসের গন্ধও আমি পাই নাই। ওরা যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে সব সময় মারধর করতো। ওরাই আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। ওরা যদি অপরাধি না হয় তবে কেন পালিয়ে রয়েছে। আমি আমার মেয়ের খুনের বিচার চাই।
কাকলীর দাদি লালবানু বেগম বলেন, আমার নাতিন যদি বিষ খাইতো ওরা ফোন দিয়ে বলতে পারতো কাকলী বিষ খাইছে। ওরা বলে নাই উল্টো লাশ রেখে পালিয়ে গেছে। যাইয়া দেহি একটা মানুষও নাই লাশের পাশে। ওরাই মাইরা পলাইয়া গেছে। আমি বিচার চাই, যারা হত্যা করছে ওদের যেন উচিত বিচার হয়।
আবুল হোসেন নামে নিহতের এক চাচা জানান, কাকলীর পরিবার থানায় হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত নিরব ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে রাজ্জাকের বন্ধু বাবুর ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা করে কাকলীকে অসুস্থ অবস্থায়  হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বাবু কাকলীর অসুস্থতার নিষয়ে অনেক কিছু জানে কিন্ত কিছু বলে না। পুলিশ ওকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেই মৃত্যুর রহস্য বের হয়ে যাবে।
নবাবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুটি রহস্যজনক। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া এ মুহূর্তে  নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিচের লিংক দিয়ে সামাজিক যোগাগোম মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই ক্যাটাগরির আরো খবর.....

হাইলাইটস

পুরোনো সংবাদ পড়ুন

সেপ্টেম্বর ২০২১
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ   অক্টো »
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ভিডিও গ্যালারি